Just another WordPress site

রহস্যময় মহাবোধি মন্দির Mysterious Mahabodhi temple

Mysterious Mahabodhi temple Where Lord Buddha has acquired spiritual knowledge

0 489

Mysterious Mahabodhi temple- রহস্যময় মহাবোধি মন্দির, যেখানে ভগবান বুদ্ধ আধ্যাতিক  জ্ঞান অর্জন করেছিলেন!

রহস্যময় মহাবোধি মন্দির (Mahabodhi temple),  আক্ষরিক অর্থে: “মহান জাগ্রত মন্দির”। রহস্যময় বৌদ্ধ মন্দিরটি প্রাচীন  ঐতিহাসিক  স্থান, তবে অনেকটা পুনর্নির্মাণ ও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে বোধি গাছের(Bodhi tree) নীচে ভগবান বুদ্ধ তার আধ্যাতিক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।  বোধি গাছ আসলে  একটি পবিত্র পিপুল গাছ। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনুসারে স্থানটি  প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি একটি প্রধান তীর্থক্ষেত্র  ছিল।   পাটনা থেকে প্রায় ৯৬  কিলোমিটার দূরে, গয়া জেলায় অবস্থিত,এই  বোধগয়া। মন্দিরটির সম্পর্কে আকর্ষণীয় তথ্যগুলির সংকলন দেওয়া হয়েছে, যা পর্যটকদের  এই স্থানটি  ঘুরে  দেখার জন্য আগ্রহী করবে। মন্দিরের হিন্দু দেবদেবীর অনেক চিত্রকর্ম এবং ভাস্কর্য খোদিত রয়েছে। অনেকগুলি  মন্দিরের প্রাচীনতম ভাস্কর্য  যা  মন্দিরের পাশের যাদুঘরে রাখা আছে।

মূল মন্দিরটি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক (Emperor Ashoka) দ্বারা নির্মিত  হয়েছিল। তবে  বর্তমান কাঠামোটি খ্রিস্টীয়  সপ্তম  শতাব্দীতে নির্মিত । এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির (Buddhist temple ) এবং মন্দিরটি  সম্পূর্ণ ইট দ্বারা নির্মিত। বোধগয়ার (Bodh Gaya) মহাবোধি মন্দিরের চারপাশে রেলিংটি বেশ প্রাচীন। কথিত আছে যে মন্দিরের  রেলিংটি  মন্দিরের অবশেষ অংশ,  যা খ্রিস্টপূর্ব সম্রাট অশোক দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। মন্দির কমপ্লেক্সে তিনটি চূড়া বিশিষ্ট,   বৃহত্তম টাওয়ারটির উচ্চতা  ১৮০ ফিট।  যা প্যাগোডার মতো আকারে অন্যান্য দেশের  বৌদ্ধ স্থাপত্যকে প্রভাবিত করে এবং বোধগয়া  বিশ্বের  বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান হিসাবে বিবেচিত।

 

মন্দিরটি বোধি গাছের তলায়,  যার অধীনে ভগবান বুদ্ধ জ্ঞান লাভ করেছিলেন। বৌদ্ধ পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে। রাজকুমার সিদ্ধার্থ গৌতম, যিনি বিশ্বের দুর্ভোগ দেখেছিলেন এবং সেটি শেষ করতে চেয়েছিলেন, ফলসরূপ বিহারের  গয়া শহরের কাছে ফাল্গু নদীর তীরে  পৌঁছেছিলেন এবং  সেখানে তিনি একটি পিপুল গাছের নীচে ধ্যানে বসেছিলেন যা পরবর্তীকালে বোধি গাছ  (Bodhi Tree ) হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অনুসারে, তিন দিন এবং তিন রাতের পরে, সিদ্ধার্থ জ্ঞান লাভ  করেছিলেন।

লোকমুখে কথিত  আছে যে, এই অঞ্চলে বোধি গাছ উপস্থিত না থাকলে, বোধি গাছের জমি কোন  উদ্ভিদকে উন্মোচনের  অনুমতি দেবে না।  একটি ঘাসও বাড়তে পারে না  এমনকি  একটি প্রাণীরা সেই অঞ্চল দিয়ে ভ্রমণ করতে সক্ষম হবে।  আরও বলা হয় যে গাছের অবস্থানটি হল, পৃথিবীর নাভি।

মূল মন্দিরটি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক দ্বারা নির্মিত  হয়েছিল। মন্দিরটি তৈরির পরে সম্রাট অশোক বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের জন্য তাঁর উত্তরাধিকারীদের শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি মূল গাছের একটি চারাও শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়েছিলেন। মুসলিম হানাদার বাহিনী যখন মূল গাছ  সমেত  মন্দিরটি ধ্বংস করেছিল, তখন সম্রাট অশোক শ্রীলঙ্কার বোধি গাছের  থেকে একটি চারা  আবার মহাবোধিতে নিয়ে আসে।

বোধি গাছের নিকটে মন্দিরে একটি পদ্ম পুকুর রয়েছে। পুকুরের চারপাশে চলার পথটিতে অনেকগুলি পাথরের পদ্ম খোদাই করা আছে। কথিত আছে যে বুদ্ধ তাঁর জীবনের সাত সপ্তাহ এই অঞ্চলে ধ্যান করে কাটিয়েছিলেন। তিনি হাঁটা ধ্যান সম্পাদন করেছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.